রাত ১:১১ | বুধবার | ১৪ই জুলাই, ২০২০ ইং | ৩১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রভাবশালীদের দখলে কাশিয়ানীর মধুমতি বাঁওড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মধুমতি বাঁওড়ে কাঠা ফেলে অবৈধভাবে মৎস্য শিকার করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র জেলেরা।

 

গত শুক্রবার উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় মধুমতি বাঁওড়ে অবৈধভাবে কাঠা দিয়ে মাছ ধরায় ইব্রাহিম মোল্যা নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমাণা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম। এ সময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু জাল জব্দ করা হয়।

 

জানা গেছে, ষাট দশকের শেষ দিকে মধুমতি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে উপজেলার ফুকরা, তারাইল, পরানপুর, ঘোনাপাড়া, চাপ্তা, রাতইল, ধানকোড়া, সুচাইল ও চরভাটপাড়া এলাকা নিয়ে বিশাল জলাশয় সৃষ্টি হয়। যা এখন মধুমতি বাঁওড় নামে পরিচিত। এ অঞ্চলের দরিদ্র জেলেদের মৎস্য শিকারের জন্য বাঁওড়টি সরকারীভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁশ পুতে ও কাঠা ফেলে বাঁওড়টি দখলে রেখেছে।

 

বাঁওড়ের তীরবর্তী অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবত বাঁওড়টি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাওড়ের তীরবর্তী এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁওড়ে অবৈধভাবে বাঁশ ও কাঠা দিয়ে দখল করে রেখেছেন। অথচ তারা কোন জেলে না।

 

দীর্ঘ দিন ধরে বাঁওড়টি দখলে রেখে বাঁওড় থেকে অবৈধভাবে জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার মৎস্য শিকার করছেন। অথচ এলাকার দরিদ্র জেলেরা বাঁওড়ে কোন ধরণের জাল-দড়ি ফেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে করে এক দিকে যেমন দরিদ্র জেলেরা মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ধবংস হচ্ছে দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার তারাইল, পরানপুর, ঘোনাপাড়া, চাপ্তা, রাতইল ও ধানকোড়া এলাকায় মধুমতি বাঁওড়ে শতাধিক স্পটে বাঁশ পুঁতে ও কাঠা ফেলে জাল দিয়ে ঘিরে মৎস্য শিকার করা হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে দিন দিন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে বাঁওড়টি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার তারাইল জেলেপাড়ার একাধিক জেলে অভিযোগ করে বলেন, মধুমতি বাঁওড়ে এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা কাঠা ফেলে দখল করে রেখে মাছ ধরছেন। দরিদ্র জেলেরা বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে ওই প্রভাবশালীরা তাদেরকে বাঁওড় থেকে উঠিয়ে দেয়। পুলিশের ভয় দেখায়। ফলে ভয়ে অনেক দরিদ্র জেলেরা বাঁওড়ে মাছ শিকার করতে যায় না।

 

মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, মৎস্য আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বাঁওড়ে মৎস্য শিকার করছে। ফলে দিন দিন এ অঞ্চল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

 

কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ বলেন, মধুমতি বাঁওড়ে কেউ বাঁশ পুঁতে, কাঠা ফেলে দখলে রেখে মাছ শিকার করতে পারবে না। বাঁওড় সকলের জন্য উন্মুক্ত। কেউ আইন অমান্য করে মৎস্য শিকার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রচলিত মৎস্য আইনে নিয়মিত বাঁওড়ে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

Views All Time
Views All Time
125
Views Today
Views Today
1

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কাশিয়ানীতে করোনায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু; সৎকার করলেন ইউএনও

» বাড়ি নয়, সব মুক্তিযোদ্ধাকে গৃহঋণ দিন– আবীর আহাদ

» কাশিয়ানীতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

» কাশিয়ানীতে নিষিদ্ধ পিরানহা ও কারেন্ট জাল জব্দ

» কাশিয়ানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

» কাশিয়ানীতে কুঠির খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু

» গোপালগঞ্জে বিকাশ প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

» জরাজীর্ণ সেতু: ২০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ

» কাশিয়ানীতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় দু’জনকে অর্থদন্ড করলেন এসিল্যান্ড

» কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করোনায় আক্রান্ত

» করোনা পরিস্থিতিতে কাজী মার্কেটের ভাড়া মৌকুফ করে দিলেন কাজী নিজাম

» গোপালগঞ্জে করোনায় মৃত বাবার লাশ ফেলে পালাল ছেলে সৎকার করলেন ইউএনও

» সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১ম মৃত্যু!

» গোপালগঞ্জে নকল স্যাভলন বিক্রির দায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

» কাশিয়ানীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ড্রেজার ধ্বংস

পরিচালনা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা : মোঃ গোলাম মোস্তফা

প্রধান সম্পাদক : নিজামুল আলম মোরাদ

সম্পাদক & প্রকাশক : পরশ উজির

পরিচালনা পর্ষদ

অঞ্চলিক অফিস ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : প্রেস ক্লাব,
কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ
নিউজ রুম : kashiani09@gmail.com 01911079050

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

প্রভাবশালীদের দখলে কাশিয়ানীর মধুমতি বাঁওড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:- গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মধুমতি বাঁওড়ে কাঠা ফেলে অবৈধভাবে মৎস্য শিকার করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার দরিদ্র জেলেরা।

 

গত শুক্রবার উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় মধুমতি বাঁওড়ে অবৈধভাবে কাঠা দিয়ে মাছ ধরায় ইব্রাহিম মোল্যা নামে এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমাণা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম। এ সময় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু জাল জব্দ করা হয়।

 

জানা গেছে, ষাট দশকের শেষ দিকে মধুমতি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে উপজেলার ফুকরা, তারাইল, পরানপুর, ঘোনাপাড়া, চাপ্তা, রাতইল, ধানকোড়া, সুচাইল ও চরভাটপাড়া এলাকা নিয়ে বিশাল জলাশয় সৃষ্টি হয়। যা এখন মধুমতি বাঁওড় নামে পরিচিত। এ অঞ্চলের দরিদ্র জেলেদের মৎস্য শিকারের জন্য বাঁওড়টি সরকারীভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁশ পুতে ও কাঠা ফেলে বাঁওড়টি দখলে রেখেছে।

 

বাঁওড়ের তীরবর্তী অধিকাংশ মানুষের পেশা মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। কিন্তু বেশ কয়েক বছর যাবত বাঁওড়টি প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাওড়ের তীরবর্তী এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাঁওড়ে অবৈধভাবে বাঁশ ও কাঠা দিয়ে দখল করে রেখেছেন। অথচ তারা কোন জেলে না।

 

দীর্ঘ দিন ধরে বাঁওড়টি দখলে রেখে বাঁওড় থেকে অবৈধভাবে জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার মৎস্য শিকার করছেন। অথচ এলাকার দরিদ্র জেলেরা বাঁওড়ে কোন ধরণের জাল-দড়ি ফেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে করে এক দিকে যেমন দরিদ্র জেলেরা মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ধবংস হচ্ছে দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার তারাইল, পরানপুর, ঘোনাপাড়া, চাপ্তা, রাতইল ও ধানকোড়া এলাকায় মধুমতি বাঁওড়ে শতাধিক স্পটে বাঁশ পুঁতে ও কাঠা ফেলে জাল দিয়ে ঘিরে মৎস্য শিকার করা হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে দিন দিন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে বাঁওড়টি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার তারাইল জেলেপাড়ার একাধিক জেলে অভিযোগ করে বলেন, মধুমতি বাঁওড়ে এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা কাঠা ফেলে দখল করে রেখে মাছ ধরছেন। দরিদ্র জেলেরা বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে ওই প্রভাবশালীরা তাদেরকে বাঁওড় থেকে উঠিয়ে দেয়। পুলিশের ভয় দেখায়। ফলে ভয়ে অনেক দরিদ্র জেলেরা বাঁওড়ে মাছ শিকার করতে যায় না।

 

মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, মৎস্য আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বাঁওড়ে মৎস্য শিকার করছে। ফলে দিন দিন এ অঞ্চল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

 

কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ বলেন, মধুমতি বাঁওড়ে কেউ বাঁশ পুঁতে, কাঠা ফেলে দখলে রেখে মাছ শিকার করতে পারবে না। বাঁওড় সকলের জন্য উন্মুক্ত। কেউ আইন অমান্য করে মৎস্য শিকার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রচলিত মৎস্য আইনে নিয়মিত বাঁওড়ে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

Views All Time
Views All Time
125
Views Today
Views Today
1

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



পরিচালনা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা : মোঃ গোলাম মোস্তফা

প্রধান সম্পাদক : নিজামুল আলম মোরাদ

সম্পাদক & প্রকাশক : পরশ উজির

পরিচালনা পর্ষদ

অঞ্চলিক অফিস ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : প্রেস ক্লাব,
কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ
নিউজ রুম : kashiani09@gmail.com 01911079050

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited