সকাল ১০:০৮ | শনিবার | ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কাশিয়ানীতে রাতের বেলা বাড়ি ও দোকানে আগুন, বলা হচ্ছে “জিনের কাণ্ড”

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শংকরপাশা গ্রামে গত এক মাসে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা একের পর এক বাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গ্রামে পাহারা বসিয়েও দুষ্কৃতকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ড জিনের মাধ্যমে হচ্ছে, এমনটি দাবি করে কৌশলে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে চাচ্ছে একটি মহল। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গত এক মাসে শংকরপাশা গ্রামে দু’টি দোকানসহ ৬টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় রাতের বেলা। যাদের দোকান ও ঘর পোড়ানো হয়েছে তারা হলেন, শাবু মুন্সীর ঘর, হাসান মুন্সীর দোকান,  লিটন মুন্সীর দোকান, আনোয়ার শেখের ঘর এবং  মনিরুজ্জামান শেখের ঘর। আনোয়ার শেখ জানান, তার বাড়িতে এক রাতেই তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে এবং ভোর রাতের দিকে। কারা এবং কেন এসব ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেরাও তা বলতে পারছেন না। তাদের দাবি, তাদের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা নেই।  বর্তমানে এলাকাবাসীর রাত কাটছে শঙ্কার মধ্যে। রাতের বেলায় ঘুমাতে পারছেন না কেউ। কখন কার বাড়িতে আগুন লেগে যায় এই ভয়ে প্রতিটি রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

 

পুড়ে যাওয়া দোকান মালিক লিটন শেখ বলেন, আমাদের এলাকাটি আগে শান্তশিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ছিল। হঠাৎ করে একদিন আমার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আমার পাশের দোকানদার হাসান মুন্সীর দোকানও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নেয় সবাই মিলে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। এরপরেও বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসব বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। বর্তমানে আমরা সবসময়ই বিপদের আশঙ্কায় থাকি।

 

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ৫ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ করে আমার ঘরে আগুন লাগে। কে বা কারা আগুন ধরিয়েছে আমরা দেখিনি। আমাদের বাড়িতে এদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার আগুন লাগানো হয়। এলাকায় আমাদের কোনও শত্রু নাই। কেন যে আমার ঘরটি পোড়ালো তা বুঝে উঠতে পারছি না। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের সাজা হোক, এটাই আমার দাবি।

 

শংকরপাশা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মিলন শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, ‘রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

 

ক্ষতিগ্রস্ত শাবু মুন্সী বালেন, রাতের আঁধারে আমার গোয়ালঘরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মসজিদের মাইকে লোকজন ডাকা হয়। এলাকাবাসী পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এরপর থেকে আমরা আতংকে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না।

 

এলাকার বাসিন্দা ও রাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম আঞ্জু বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য জিনের কাণ্ড বলে চালানো হচ্ছে।  যারা এসব করছে তারা হয়তো অন্য কোনও বড় ধরনের অপরাধ করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে  স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষীরা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Views All Time
Views All Time
431
Views Today
Views Today
1

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বিয়েতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে আনন্দ প্রকাশ

» কাশিয়ানীতে নিখোঁজের দু’দিন পর বিল থেকে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার

» বন্যার্তদের মাঝে রান্নাকরা খাবার বিতরণ করলেন পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকিম

» কাশিয়ানীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

» কাশিয়ানীতে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

» টেস্ট

» কাশিয়ানীতে সেবার মাঝে চিকিৎসক-নার্সদের ঈদ আনন্দ

» ঈদের দিন কাশিয়ানীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার আত্মহত্যা

» কাশিয়ানীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

» মোল্লা আবু কাওছারের ক্যাসিনোকান্ডে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি-সিআইডি

» কাশিয়ানীতে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই পরিবারের ৩ জন নিহত, আহত ২

» “মানবিক চেয়ারম্যান ও সূর্য শিশির ফাউন্ডেশন”

» গোপালগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজি লিকু

» কাশিয়ানীতে উদ্বোধন হল পাবলিক লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’

» কালনা ফেরিঘাট যেন মরণ ফাঁদ; গ্যাংওয়ে তলিয়ে পারাপারে দুর্ভোগ

পরিচালনা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা : মোঃ গোলাম মোস্তফা

প্রধান সম্পাদক : নিজামুল আলম মোরাদ

সম্পাদক & প্রকাশক : পরশ উজির

পরিচালনা পর্ষদ

অঞ্চলিক অফিস ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : প্রেস ক্লাব,
কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ
নিউজ রুম : kashiani09@gmail.com 01911079050

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

কাশিয়ানীতে রাতের বেলা বাড়ি ও দোকানে আগুন, বলা হচ্ছে “জিনের কাণ্ড”

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শংকরপাশা গ্রামে গত এক মাসে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা একের পর এক বাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গ্রামে পাহারা বসিয়েও দুষ্কৃতকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মকাণ্ড জিনের মাধ্যমে হচ্ছে, এমনটি দাবি করে কৌশলে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে চাচ্ছে একটি মহল। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গত এক মাসে শংকরপাশা গ্রামে দু’টি দোকানসহ ৬টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় রাতের বেলা। যাদের দোকান ও ঘর পোড়ানো হয়েছে তারা হলেন, শাবু মুন্সীর ঘর, হাসান মুন্সীর দোকান,  লিটন মুন্সীর দোকান, আনোয়ার শেখের ঘর এবং  মনিরুজ্জামান শেখের ঘর। আনোয়ার শেখ জানান, তার বাড়িতে এক রাতেই তিনবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে এবং ভোর রাতের দিকে। কারা এবং কেন এসব ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেরাও তা বলতে পারছেন না। তাদের দাবি, তাদের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা নেই।  বর্তমানে এলাকাবাসীর রাত কাটছে শঙ্কার মধ্যে। রাতের বেলায় ঘুমাতে পারছেন না কেউ। কখন কার বাড়িতে আগুন লেগে যায় এই ভয়ে প্রতিটি রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

 

পুড়ে যাওয়া দোকান মালিক লিটন শেখ বলেন, আমাদের এলাকাটি আগে শান্তশিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ছিল। হঠাৎ করে একদিন আমার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আমার পাশের দোকানদার হাসান মুন্সীর দোকানও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর গ্রামবাসী সিদ্ধান্ত নেয় সবাই মিলে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। এরপরেও বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসব বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। বর্তমানে আমরা সবসময়ই বিপদের আশঙ্কায় থাকি।

 

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ৫ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ করে আমার ঘরে আগুন লাগে। কে বা কারা আগুন ধরিয়েছে আমরা দেখিনি। আমাদের বাড়িতে এদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার আগুন লাগানো হয়। এলাকায় আমাদের কোনও শত্রু নাই। কেন যে আমার ঘরটি পোড়ালো তা বুঝে উঠতে পারছি না। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের সাজা হোক, এটাই আমার দাবি।

 

শংকরপাশা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মিলন শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, ‘রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।

 

ক্ষতিগ্রস্ত শাবু মুন্সী বালেন, রাতের আঁধারে আমার গোয়ালঘরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মসজিদের মাইকে লোকজন ডাকা হয়। এলাকাবাসী পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এরপর থেকে আমরা আতংকে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না।

 

এলাকার বাসিন্দা ও রাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম আঞ্জু বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য জিনের কাণ্ড বলে চালানো হচ্ছে।  যারা এসব করছে তারা হয়তো অন্য কোনও বড় ধরনের অপরাধ করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে  স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষীরা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Views All Time
Views All Time
431
Views Today
Views Today
1

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



পরিচালনা পর্ষদ

প্রধান উপদেষ্টা : মোঃ গোলাম মোস্তফা

প্রধান সম্পাদক : নিজামুল আলম মোরাদ

সম্পাদক & প্রকাশক : পরশ উজির

পরিচালনা পর্ষদ

অঞ্চলিক অফিস ও সম্পাদকীয় কার্যালয় : প্রেস ক্লাব,
কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ
নিউজ রুম : kashiani09@gmail.com 01911079050

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited